কিশোরত্ববাদ

বিকাশ হোক কিশোরত্ববাদের............

একজন কিশোরের বৃদ্ধি একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এক একটা বয়সে কিশোরের এক একটা কাজ করা উচিত। একে বলে বিকাশের স্তর। তবে সমাজের বুঝা উচিত এবং জানা উচিত, কোনও দুটো কিশোরের বিকাশ সমগতিতে হয় না। যখন সমাজের সবচাইতে বড় ইনফ্লুয়েনশিয়াল গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক তথ্য পাচার গতি, একটি কিশোরের একটি দিক নিয়েই টানাটানি করে তখন সমাজে ঐ কিশোরের বিকাশের স্থান থাকে না। 

যদি সেই দিকটি হয় একজন কিশোরের ভাল দিক তবে, সেটি খুব বেশি গ্লোরিফাই করা যেমন ঠিক না এতে অপরাধের ভয়াবহ দিক যেমন চাপা পরে যায় তেমনি, খারাপ দিকও গ্লোরিফাই করা ঠিক না, অর্থাৎ একজন কিশোরের বিকাশের পথেও বাধা দেয় কারণ, সে সর্বদাই খারাপ চিত্র সমূহ তার চোখের সামনে দেখে। ফলে যেটা হয় সমাজ ভুলে যায় একজন কিশোরের ও সৌন্দর্য রয়েছে, তাদেরও সৃজনশীলতা রয়েছে। একটা উদাহরণ দিয়েই বুঝাই।

আমার ছোট ভাই প্রতীক বাসা থেকে চলে যাবার আগে বললো, ভাইয়া রেখে গেলাম পড়ে নিও। বইটা খুলতেই অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম। এমনও কি বন্ধু বাস্তবে এখন থাকে? যে জন্মদিনে একটা বই উপহার দিবে?

আমার ভাষায় এরা মানুষ নয় ,এদের আত্মায় আছে মাধুর্যতা যেজন সবিছেন ইশ্বর। আসলেই কিশোরদের হৃদয় হয় পবিত্র। আমরা প্রতিনিয়ত শুনি কিশোর দের নানান অপকর্ম, নানান সামাজিক মূল্যবোধ হীনতার ফলে সমাজ করছে খবরের পাতায় তাদের বিচার। আমার প্রশ্ন হলো কয়টা নিউজ এই সমাজ পায় যেখানে একজন কিশোরের এচিভমেন্টকে গ্লোরিফাই করা হয় ? কয়টা নিউজ পাওয়া যায় যেখানে বাংলাদেশের কিশোরদের নানান সৎ কর্ম কিংবা তাদের পবিত্র মনের চিত্রায়ন তুলে ধরা হয়? আপনি পাবেন না এমন নিউজ কিংবা খবর। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, শুধু চুরি, খুন, হত্যা এগুলার প্রচার করলেই বুঝি আমাদের শিশু , কিশোর কিংবা যুবক অথবা তরুণদের জন্য সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা তৈরী হবে। আপনি চান আপনার সমাজের নতুন প্রজন্ম সুন্দর হোক কিন্তু আপনিই তার চোখে আংগুল দিয়ে বার বার দেখান অপকর্ম গুলাকে, কখনও এখান থেকে বের হবার উপায় এই সমাজ পাব্লিশ করে না, করতে চায় না। অর্থাৎ সমাজের তরুণদের উন্নতির কথা এক দিকে থাকতে অন্যদিকে D Class Porn এর বহুল প্রচারের মাধ্যমে এরা নিজেদের হিপোক্রেট প্রমাণ করে আসছে প্রতিনিয়ত। এই অসুস্থ তথ্য এবং তত্ত্বের মিলন ঘটিয়ে news এর PR বাড়ানো যায়, কিন্তু একটা কিশোরের পবিত্রতা, সুন্দর্য্য অথবা নৈপুন্যশিলতাকে গ্লোরিফাই করা যায় না কারণ এর আরজেন্সি যেমন ফিল করতে এই সমাজের আরো ১০০ বছর লাগবে তেমনি নিউজ মিডিয়ার উচিত বাচ্চাদের সামনে এটা পট্রেয় করা যেখানে থাকবে সুস্থ মানসিকতার এক নির্ভুল চিত্রায়ন।

মো. তসলিম ভূঁইয়া প্রান্তিক।

শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, আইন বিভাগ