স্টোয়িক দর্শন

আত্ম-নিয়ন্ত্রণ যেথায় সুফলের মাধ্যম 

এই ধরিত্রীতে কারো জীবন স্থীর নয়। জীবণের সাথে আপনার আমার কিংবা কঠিন অনশনে থাকা মানুষটিরও প্রতি নিয়ত বোঝাপড়া হয় সাতকাহনেরভীরে। এই সাতকাহনের মধ্যেই বসবাস করে হরেকরকমের বিশ্বাস, নব্য অনুভূতি, আপ্লুত তত্ব আরও অনেক চাহিদা। তবে এই চাহিদার জগৎ-এ পূর্ণ হৃদয়নিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার চেয়ে শূন্য হৃদয় নিয়ে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা কি উত্তম নয়? হ্যাঁ উত্তম বৈকি। তবে একে বাড়েই শূণ্য থাকা নেজ্য নয়।

আমরা যতটুকু চাই তার চাইতেও বেশি ফল পেতে আগ্রহী হয়ে উঠি। তার কারণ, হলো  অতি মাত্রায় প্রত্যাশা। আমরা এই প্রত্যাশাকে পিছু ফেলতে পারি না।শুধু এই বিশেষ প্রত্যাশা নামক শব্দটির জন্য সৃষ্টি হচ্ছে অহংকার(Ego), অতিমাত্রায় প্রতিকূল প্রেমপ্রীতি, আর বিশ্বাসঘাতকতার মতন উন্নত সমাজের ঘৃণ্যএক আচরণের পরিচর্যা যা ব্যক্তি নিজেই নিজের মধ্যে লালন করে সেই সময়টা ধরে, যে সময়টা ধরে উক্ত ব্যক্তি ‘’ভালবাসার’’ বদলে ‘’ভাল-লাগা’’-তেনিজেকে অভ্যস্থ করে তোলে। ভালবাসা হয় নিয়ন্ত্রণ যোগ্য তবে ভাল লাগা নিয়ন্ত্রণের কিছুটা অযোগ্য। ভালো লাগায় চাওয়া পাওয়া বিদ্যমান ভালবাসায়নয়।  অতি মাত্রায় কোনো কিছুই ভাল না। এটা গুরুজনদের কথা। আসলে অতি মাত্রায় এই চাওয়া পাওয়া করার মাধ্যমে মানুষ হারিয়ে ফেলে পারস্পারিকসু-সম্পর্ককে, দূরে সরে আসে পরিবার থেকে ফলে একটা সময় ছিটকে পড়ে সমাজের মার্জিত মনোভাব থেকে। সমাজের মার্জিত মনোভাব থেকে ছিটকে পড়াএকজন মানুষ সমাজের সাথে থাকতে না পেরে, একটা সময় পরে হয়ে উঠে অসামাজিক।

একজন অসামাজিক মানুষ সমাজের থেকে শুধু গ্রহণ করতে পারে, সমাজকে কিছু দিতে পারে না। তাই প্রথমে কোনো কিছুকে মন থেকে চাইতে হলে সেটিকেআগে বুঝতে হবে, যা নিতান্তই ভুল কোন কিছুর দিকে প্রবাহিত করা যাবে না। অতঃপর বুঝার পরেই এর গুরত্ব অনুধাবন করতে হবে। এখন প্রশ্ন আসতেইপারে আমরা নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ অনেক সময়ই করতে পারি না, তবে কিভাবে এই নিয়ন্ত্রণ রাখবো যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ এবং চাওয়া পাওয়া ভুল কোনকিছুর দিকে প্রবাহিত না হয়? এর উত্তর খুবই সহজ। আমাদেরকে জানতে হবে একটি প্রয়োজনীয় ধারনার নাম, যা মেনে চলার মাধ্যমে আমরা আমাদেরউপর নিয়ন্ত্রণ এবং চাওয়া পাওয়া ভুল কোন কিছুর দিকে প্রবাহিত করা থেকে রোধ করতে পারি। আর সেটি হচ্ছে, “স্টোয়িকবাদ অথবা স্টোয়িসিজম”-এরধারণা। স্টোয়িকবাদ মূলত আপনাকে শিক্ষা দিবে,কিভাবে ধ্বংসাত্মক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্যের সাহায্যে কাজ সম্পাদন করা এবং চাওয়া পাওয়া ভুল কোনকিছুর দিকে প্রবাহিত করা থেকে নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক পথে নিয়ে আসা এবং কিভাবে নৈতিক মূল্যবোধকে গ্রহণ করা যায়। ফলপ্রসূতে আপনি এই ধারণা মেনেপেতে পারেন সুখী জীবণ।


তাই প্রিয় মানুষের ক্ষেত্রে হোক কিংবা প্রিয় প্রাণীটির ক্ষেত্রেই হোক অথবা প্রিয় বস্তুটির ক্ষেত্রেই হোক, গুরুত্ব অনুধাবন করা ছাড়া কোনো কিছুরই মর্ম অনুভবকরা যায় না। যখন মহা মূল্যবান এই সম্পদটি মানুষের গুরুত্ব বোধক হবে, অতঃপর হৃদয়ের গহীন অন্তরালের ভীড়ে মিশে থাকা হাজারও জঞ্জাল কে দূরকরে দিবে নিমিশে তখন ভালবাসার আগমন ঘটবে হৃদয় থেকে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে আসবে শান্তি, ঐক্য।


আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে ভালবাসা হৃদয় থেকে হয়, আবেগ থেকে নয়। কারণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে কিন্তু হৃদয় নিয়ন্ত্রণহীন হলেওসামলানো সম্ভব । মহা মানবগণ গোটা বিশ্বের মানুষকে ভালবেসেছেন হৃদয় দিয়ে। আমার এই কথাটি পরীক্ষিতও বটে। এই ভালবাসার একটি উৎকৃষ্টউদাহরণ হলো, আমাদের মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ই মার্চ ১৯২০–১৫ই আগস্ট ১৯৭৫), কর্তৃক এই বাংলার মানুষের প্রতিভালবাসা। তিনি নিজের বুকের রক্ত দিয়ে আমাদেরকে শিখিয়ে গিয়েছেন দেশের প্রতি তাঁর ভালবাসা এসেছে হৃদয় থেকে যা অর্জন করতে মৃত্যুকেও তিনিবরণ করতে দ্বিধাবোধ করেননি। তাই হৃদয় থেকে গভীরভাবে স্মরণ করছি আমাদের মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার বিশাল হৃদয়েরভালবাসার ফলাফল হিসেবে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ।


বিবেকহীন মানুষ কখনো স্নেহ করতে পারে না। তারা সমাজ থেকে গ্রহণ করেই চলতে থাকে। এই ধরনের আচরণিক পরিবর্তনের ফলে একটা সময় বাড়তেপারে বিবেকহীন মানুষের অবস্থান এই সমাজে। ফলে একটা সমাজে অভাব দেখা দেয় বিবেক সম্পন্ন কর্মঠ মানুষের । আবেগ দিয়ে এই বিবেকহীন মানুষতাদের সকল চাওয়া পাওয়ার ফলাফলকে বিচার করে যার অধিকাংশ সময়েই হিতে বিপরীত হয় সমাজের উন্নতির জন্য। আর ফলে আমাদের সুজলা সুফলাশস্য শ্যামলা বাংলাদেশে সৃষ্টি হতেই পারে শান্তির প্রাচীরের নিস্তেজতা, আর শৈল্পিক প্রকাশের মানশূণ্যতা বৃদ্ধি । আত্ম-নিয়ন্ত্রণ থাকলে আমরা পেতে পারিএকাধারে সুন্দর একটি বাংলাদেশ, আমরা পেতে পারি উন্নতর পরিবার , আমরা পেতে পারি উন্নত রাষ্ট্র। নিজেকে নিয়ন্ত্রণহীন বানালে নিজের আত্মীক মাধুর্যতা হারায়, ফলে দেশকে আমি কি দিতে পারবো আমার সৃজনশীলতা দ্বারা তা কিন্তু প্রশ্ন বিদ্ধ। তাই নিজদেরকে প্রস্তুত করতে হবে নতুন বাংলাদেশেরজন্য এবং বিশ্বের জন্য যেখানে পারস্পারিক মেল বন্ধনের দ্বারা দূর হবে ভুল কোন কিছুর প্রতি চাওয়া পাওয়ার এক ঘৃণ্য আচরণের পরিচর্যা, সৃষ্টি হবেসরকার,আইন,সমাজ,সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের উচ্চ পন্থা।


তাই চলুন সুষ্ঠ আত্ম-নিয়ন্ত্রণে আমরা পারস্পারিক মেল বন্ধন গড়ে তুলি পাশাপাশি বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে উন্নত আচরণ প্রকাশ করি যেন আমরাএকদিন এই সোনার বাংলাদেশকে গোটা পৃথিবীর জন্য অনুকরণীয় করে গড়ে তুলতে পারি।

 

মো. তসলিম ভূঁইয়া প্রান্তিক।

শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, আইন বিভাগ