অর্থের বাহার 

অর্থের রূপান্তরন


একটা গল্প যা আমাদের প্রভাবিত করার গল্প। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় আমরা মুদ্রা এবং অর্থব্যবস্থার যেরূপ আজকে দেখি তা কিন্তু এমনটা ছিল না। একটা সময় ছিল যখন মুদ্রার দ্বারা অর্থাৎ "বিনিময় প্রথা" যা কোন বস্তুর সাথে বিনিময় করা যেমন মাছের বিনিময় কিছু রু্টি বিনিয়ময় করা। তবে দাদা ঝামেলা যেটা হলো, কিছুদিন পর এই ব্যবস্থার সমস্যা দেখা দেয় উক্ত সমাজের কাছে এই যে, আমার কাছে যা আছে তা অন্যের প্রয়োজনে নাও হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে বিনিময় কিছু নীতি যা আমার জন্য অপ্রয়োজনীয়। ফলে যেটা হয়, এর পর আমাদের পূর্বসূরিরা বুঝতে পারে যে বিনিময়ের জন্য তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কিছু একটা প্রয়োজন, যা বিভিন্ন পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করবে যেমনঃ  গবাদি পশু , ঝিনুক এবং একসময় দামী ধাতব মুদ্রা এই কাজে ব্যবহৃত হতে শুরু হয়। শত শত বছর পরে একসময় রাষ্ট্রগুলো কাগজের টাকা ব্যবহার করা করে যার মান নির্ধারিত হয় সোনার মূল্য দ্বারা। যেটাকে বলা হয় "গোল্ডস্ট্যান্ডার্ড"। কিন্তু 1971 সালে আমেরিকা সহ আরও অনেক রাষ্ট্র গোল্ডস্ট্যান্ডার্ড ত্যাগ করে এর মানে দাড়ায় এই যে, ডলারের মান সোনা দিয়ে আর নির্ধারিত হবে না, বরং তা নির্ধারিত হবে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক এবং সকলের সম্মতিতে । এর মাধ্যমে টাকা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের ওপর সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুলো আরো বেশি ক্ষমতা পায় এবং আর্থিক সংকটের সময় মুদ্রানীতি পরিবর্তন হয়ে ওঠে আরও সহজ। সহজ এই ধরনের টাকাকে বলা হয় "FiaT money” । এই টাকার মান সরকার দ্বারা নির্ধারিত হয় না বরং নির্ধারিত হয় সরকার এবং আমরা যে সরকারকে বিশ্বাস করি সেই বিশ্বাসের উপর।


মো. তসলিম ভূঁইয়া প্রান্তিক।

শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, আইন বিভাগ